শরীরকে মজবুত এবং সচল রাখতে প্রতিদিন যে যে উপদানগুলোর প্রয়োজন পরে, তার সবকটাই মজুত রয়েছে শসা তে।
যেমন ধরুন ভিটামিন কে, সি, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, রাইবোফ্লবিন, বি৬, ফলেট, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড, আয়রন, সিলিকা, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্ক। এবার তাহলে বুঝেছেন নিশ্চয়, শুধু গরমকালে নয়, সারা বছর জুড়েই শসাতে খাওয়ার প্রয়োজন কতটা! শরীরকে চাঙ্গা রাখতে যে নিয়মিত শসা খাওয়া উচিত, সে সম্পর্কে না হয় কোনও সন্দেহ নেই!
কিন্তু প্রশ্ন হল এই প্রাকৃতিক উপাদানটি পুষ্টির ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি শরীরের আর কী কী উপকার করে ? হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটেএকাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, হার্টকে চাঙ্গা রাখতে বাস্তবিকই এই প্রাকৃতিক উপাদানটি কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে উপস্থিত লেরিসিরেসিনোল, শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে হার্টের কোনও ধনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে থাকে না বললেই চলে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসেপরিবারে কি এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে? তাহলে রোজের ডায়েটে শসা কে অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না যেন! আসলে এতে উপস্থিত পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম, শরীরে প্রবেশ করার পর লবণের প্রভাবকে কমাতে শুরু করে, যে কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না।খনিজের চাহিদা মেটেখেয়াল করে দেখবেন অনেকেই ত্বকের পরিচর্যায় শশাকে কাজে লাগিয়ে থাকেন।
কেন এমনটা করেন, জানেন? আসলে শসাইর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম,পটাসিয়াম এবং সিলিকন। এই সবকটি খনিজ শরীরের উন্নতির পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যদি অল্প দিনেই তরতাজা ত্বক পেতে চান, তাহলে আজ থেকেই কাজে লাগানো শুরু করতে পারেন খিরাই কে। দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকেদেহের তাপামাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শসা খাওয়াটা জরুরি। কারণ শসা দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে সানস্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।
শুধু তাই নয়, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে ত্বক পুড়ে গেলেও শসা লাগাতে পারেন। কারণ পোড়া ভাব কমাতে শসা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রকোপ কমেপ্রকৃতির ডাক মানেই কি যন্ত্রণার অনুভূতি? তাহলে আজ থেকেই খিরাই খাওয়া শুরু করা উচিত। কারণ এমন ধরনের কষ্ট কমতে বাস্তবিকই শসার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।
আসলে এই সবজিটির ভিতরে উপস্থিত ফাইবার, শরীরের ভিতরে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না।ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসেএকেবারে ঠিক শুনেছেন ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাস্তবিকই এই ফলটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে শশা খাওয়া মাত্র শরীরের ভিতরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।ক্যানসারের মতো রোগ দূরে থাকেএকাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, শশাতে এমন কিছু উপাদান আছে, যা ক্যানসার রোগকে প্রতিরোধ করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।
শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যায়খিরাই র শরীরে উপস্থিত বিপুল পরিমাণ পানি দেহের ভিতরে প্রবেশ করা মাত্র ইতি উতি জমে থাকা টক্সিক উপাদনকে ধুয়ে মুছে বার করে দেয়। ফলে শরীরে বিষের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে কোনও ধরনের রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমে।শরীরের ভিতরে পানির অভাব দূর হয়দেহের ভিতরে পানির মাত্রা স্বাভাবিক থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। না হলে শরীর শুকিয়ে গিয়ে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই তো প্রতিদিন শসা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে শশার শরীরে এত মাত্রায় পানি আছে, প্রায় ৯৬ শতাংশ, যে খুব সহজেই পানির ঘাটতি দূর করে ডিহাইড্রেশন হওয়ার আশঙ্কা কমানো সম্ভব।ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয়শরীরকে সচল রাখতে ভিটামিনের প্রয়োজন পরে। সেই ভিটামিনের যোগান ঠিক রাখতে শসা খাওয়া মাস্ট! কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, বি এবং এ থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি এনার্জির ঘাটতি দূর করতে এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য় বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি দূর হয়৩০০ গ্রাম খিরাই প্রায় ১১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২ গ্রাম প্রোটিন, ২ গ্রাম ফাইবার, দিনের চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ ভিটামিন সি এবং ৬২ শতাংশ ভিটামিন কে থাকে।
সেই সঙ্গে থাকে দিনের চাহিদার ১০ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম, ১৩ শতাংশ পটাশিয়াম এবং ১২ শতাংশ মেঙ্গানিজ। এই সবকটি উপাদানই আমাদের শরীরের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমনিকা পালন করে থাকে। তাই তো নিয়মিত পরিমাণ মতো শশা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।ওজন কমে চোখে পরার মতোঅতিরিক্ত ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে সকাল-বিকাল শসা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ শসাতে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান শরীরে মজুত অতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।এক নজরে কিছু উপকারিতা "
১
২. খিরাইতে রয়েছে স্টেরল নামের এক ধরনের উপাদান, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, শসার খোসায়ও স্টেরল থাকে।
৩. ওবেসিটি নিয়ন্ত্রণে খিরাই খুব উপকারী।
৪. কিডনি, ইউরিনারি, ব্লাডার, লিভার ও প্যানক্রিয়াসের সমস্যায় খিরাই বেশ সাহায্য করে থাকে।
৫. এরেপসিন নামক অ্যানজাইম থাকার কারণে শসা হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধান করে থাকে।
৬. শসা বা শসার রস ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও বেশ উপকারী।
৭. শসার রস আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রেও উপকারী।
৮. মিনারেলসমৃদ্ধ শসা নখ ভালো রাখতে, দাঁত ও মাড়ির সমস্যায় সাহায্য করে।
৯. ডাক্তারের পরামর্শনুযায়ী শসার রস খেলে আর্থ্রাইটিস, অ্যাগজিমা, হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় উপকার হতে পারে। ১০.গাজরের রসের সাথে শসার রস মিশিয়ে খেতে পারেন, ইউরিক অ্যাসিড থেকে ব্যথার সমস্যা হলে অনেক কাজে দেবে।
Login to ask a question