আয়ুর্বেদশাস্ত্রে বহু বছর ধরে অপরাজিতা ফুল সুস্থতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখার দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনি ভেষজ গুণও অনেক। আর গাছেরও খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। তাই বাড়ির ছাদে অথবা বারান্দার টবে এই গাছ লাগিয়ে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি খেতে পারেন এর চা।
ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা: এর অ্যান্টি-গ্লাইকেশন বৈশিষ্ট্য ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ করে এবং চুলের ফলিকল মজবুত করে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়: অপরাজিতা ফুলের চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালিকে শিথিল করতে সাহায্য করে। যা রক্তচাপ কমিয়ে হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ কমায়। ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ কমায়: অপরাজিতা ফুলের চায়ে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন, প্রোঅ্যান্থোসায়ানিডিন এবং কোয়ারসেটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা অকাল বার্ধক্যের কারণ হিসেবে পরিচিত ফ্রি-র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট–সমৃদ্ধ পানি শরীরে থাকা বিষাক্ত উপাদানগুলো সরিয়ে ডিটক্স করতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়: খাবার খাওয়ার আগে অপরাজিতা ফুলের এক কাপ চা পান করলে গ্রহণ করা খাবার থেকে গ্লুকোজ শোষণে এটি বাধা দেয় ও কমিয়ে দেয় রক্তের শর্করার মাত্রা। যা ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য উপকারী।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: অপরাজিতা ফুলের চা ক্ষুধা দমন ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়: অপরাজিতা ফুল নুট্রপিক হিসেবে প্রমাণিত। নুট্রপিক এমন একটি পদার্থ যা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। এই ফুলের চা পানে সতেজ হয় মস্তিষ্ক, বাড়ে এর কার্যকারিতা।
দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা: প্রাচীন কাল থেকেই চোখের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এবং দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে এই চায়ের নির্যাস ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
হজমে সাহায্য করে: অপরাজিতা ফুলের চায়ে মল নিঃসরক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা হজমে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর পরিপাকতন্ত্র গঠনে সাহায্য করে।
শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ করে: অপরাজিতা ফুলের চায়ে অ্যান্থোসায়ানিনস, প্রোনথোসায়ানিডিনস এবং কোয়ার্সেটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের শরীরের র্যাডিক্যালগুলিকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে এবং কোষগুলিকে মানসিক চাপ এবং ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
শরীরে জ্বালা ভাব দূর করে: নিয়মিত অপরাজিতা বা প্রজাপতি-মটর ফুলের চা পান করলে শরীরের জ্বালা ভাব দূর হয়। এই চা শরীরের অতিরিক্ত উত্তেজনা কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
অ্যাজমা প্রতিরোধ: এতে উপস্থিত স্যাপোনিন ও ফ্লাভোনোয়িড যৌগ অ্যাজমা প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
Login to ask a question