১| এর মধ্যে আছে অ্যান্টি এজিং উপাদান
মুসুর ডালে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আর প্রোটিন। এগুলো ফেসপ্যাকের মাধ্যমে ত্বকে প্রবেশ করে এবং ত্বকের টিসুকে সজীব রাখে। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক অনেক বেশি টানটান হয় এবং বলিরেখা অনেক কম পড়ে।
২| ত্বকে সামঞ্জস্য আনে
অনেক সময় আমাদের স্কিন টোনের সামঞ্জস্য হারিয়ে যায়। দেখা দেয় দাগছোপ বা ডার্ক স্পট। আবার মুখের রঙের সঙ্গে হাত পায়ের রং ম্যাচ করে না। মুসুর ডালের সঙ্গে গোলাপ জল আর হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগালে এই সমস্যা দূর হবে। এই তিনটি উপাদানের মিলিত প্রভাবে দাগছোপ দূর হবে এবং ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল হবে।
৩| ট্যান রিমুভ করে
মুসুর ডালের প্যাক এমনিতেই ত্বকের জন্য ভাল। তাই মোটামুটিভাবে ত্বক যত্ন রাখতে এই ডাল আপনি বেটে মুখে লাগাতে পারে। অনেকে এই ডাল ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে রেখে দেন। যাতে মাঝে মাঝে রূপচর্চায় ব্যবহার করতে পারেন। তবে ত্বকের প্রকার অনুযায়ী ফেসপ্যাকেও কিছু পরিবর্তন থাকবে। মূল উপাদান মুসুর ডাল হলেও অন্য উপাদানে তারতম্য থাকবে।
১| সব রকমের কাজে আসবে এই ‘অলরাউন্ডার ফেসপ্যাক
এই প্যাক সব রকমের ত্বকে এবং সব কাজে ব্যবহার করা যাবে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে অ্যাকনে প্রতিরোধ করবে, ত্বকে উজ্বল আভা আনবে এবং ট্যান দূর করবে। এই প্যাক তৈরি করার জন্য আগের দিন রাত্রে মুসুর ডাল ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। পরের দিন সেটা বেটে নিয়ে তাঁর মধ্যে ১/৩ কাপ কাঁচা দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। মুখে চক্রাকার মোশনে এটা লাগাতে হবে। কুড়ি মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
২| প্রতিদিনের ফেসওয়াশ হিসেবে মুসুর ডালের প্যাক
এক টেবিল চামচ মুসুর ডালের পাউডার বা পেস্ট তার সঙ্গে দুই টেবিল চামচ দুধ আর এক চিমটে হলুদ ও কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। দুই মিনিট মতো রেখে হাল্কা স্ক্রাব করে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকও রোজ ব্যবহার করা যাবে। এটা আসলে একটা ফেসওয়াশের মতো। তবে যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয় তাহলে নারকেল তেল ব্যবহার করবেন না।
৩| ত্বক উজ্জ্বল রাখার জন্য ফেসপ্যাক
যাঁদের ত্বক শুষ্ক তাঁদের এই প্যাক খুব কাজে দেবে। এই প্যাক ত্বক উজ্জ্বল করবে এবং মুখে কালো দাগছোপ থাকলে সেটা দূর করবে। ৫০ গ্রাম মতো মুসুর ডাল বেটে তাতে এক চা চামচ কাঁচা দুধ আর এক চা চামচ আমন্ড অয়েল মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ADVERTISEMENT
৪| শুষ্ক ত্বকের জন্য মুসুর ডালের প্যাক
দুই টেবিল চামচ মুসুর ডাল সাড়া রাত কাঁচা দুধে মিশিয়ে রাখুন। পরের দিন একটু দানা দানা করে বেটে নিন। মানে বেশই মিহি করে বাটবেন না। এবার এই প্যাক মুখে, ঘাড়ে ও গলায় লাগিয়ে নিন। কুড়ি মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
৫| মেথি ও মুসুর ডালের প্যাক
২-৩ টেবিল চামচ মুসুর ডাল ও এক চা চামচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত। এটা আসলে একটা স্ক্রাবের মতো কাজ করবে আপনার ত্বকে। তাই একটু দানা দানা মতো করে বাটবেন। বেশি মিহি করে বাটবেন না। মুসুর ডাল আপনার ত্বক উজ্জ্বল করবে আর মেথি কাজ করবে প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে।
৬| মুখের অবাঞ্ছিত লোম তোলার জন্য ফেসপ্যাক
এই প্যাক ত্বক উজ্জ্বল করবে এবংস সমস্ত দাগছোপ নির্মূল করবে। তার সঙ্গে এটি আপনার মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করবে। তাই থ্রেডিং না করেও অতি সহজে আপনি আপার লিপ বা থুতনির অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে পারবেন।১০০ গ্রাম মুসুর ডাল, পঞ্চাশ গ্রাম চন্দন পাউডার আর এক চা চামচ কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো দুধে মিশিয়ে রেখে দিন সারা রাত। এগুলো ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে যদি প্যাক বেশি শুকিয়ে যায় তাহলে অলিভ অয়েল দিয়ে আজ্ঞে হাল্কা করে স্ক্রাব করে নেবেন।
৭| নির্জীব ত্বকের জন্য মুসুর ডালের প্যাক
মুসুর ডাল একটু ভেজে নিয়ে তারপর বেটে নিন। যতটা মুসুর ডাল নিলেন ততটা কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো নিন। দুটো ভাল করে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক সপ্তাহে দুইবার লাগাতে পারেন। মাস তিনেক ব্যবহার করার পর আপনি নিজেই তফাৎ বুঝতে পারবেন।
রোদে পুড়ে ট্যানড হয়ে গেছেন নাকি খুব সম্প্রতি সমুদ্র সৈকত থেকে ঘুরে এসেছেন। রোদ লেগে ত্বকের একদম দফারফা অবস্থা। কোথাও সাদা আবার কোথাও কালো ছোপ সব মিলিয়ে মোটেই ভাল অবস্থা নয়। সাহায্য নিন মুসুর ডালের। এতে আছে ভিটামিন বি ১, ভিটামিন কে আর ভিটামিন এ। এই ভিটামিনগুলো ত্বকের ট্যান রিমুভ করতে সাহায্য করে। তার সঙ্গে ত্বকে পুষ্টিও যোগায়। মুসুর ডালের সঙ্গে একটু টমেটো মিশিয়ে ত্বকে লাগালে দূর হবে আপনার ট্যান।
৪| শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়
যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁদের জন্য আশীর্বাদের মতো এই মুসুর ডাল। অনেকে মনে করেন, এই ডাল ত্বক আরও শুষ্ক করে দেয়। আসলে কিন্তু বিষয়টি একদমই তা নয়। দুধের সঙ্গে মুসুর ডাল বাটা মিশিয়ে যদি প্রতিদিন মাখেন তাহলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। শুধু তাই নয় ত্বক হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি নরম ও পেলব।
৫| অবাঞ্ছিত লোম তুলতে সাহায্য করে
অনেকেই থ্রেডিং করাতে ভয় পান ব্যথা লাগবে বলে। মুসুর ডাল কিন্তু মুশকিল আসান হতে পারে। মুসুর ডালের প্যাক লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়ার পর আলতো করে ঘষলে ছোট ছোট লোম উঠে আসে। এতে এক ঢিলে দুই পাখি হয়। লোমও উঠে যায় আবার ত্বকও অনেক নরম হয়ে যায়।
৬| ত্বক টানটান করে
মুসুর ডালে আছে পটাশিয়াম, আয়রনসহ অন্যান্য উপকারি যৌগ। এগুলো ত্বকের মধ্যে প্রবেশ করে ত্বককে র্যা ডিক্যালমুক্ত করে। ত্বকে পুষ্টি জুগিয়ে দূষণ থেকে রক্ষা করে। তাই মুসুর ডালের প্যাক মুখে লাগালে ত্বক অনেক বেশি টানটান ও তরুণ দেখায়।






Login to ask a question